স্ত্রী তার স্বামীর কাছে কি কি কারণে তালাক\ডিভোর্স চাইতে পারবে?
প্রশ্নঃ ১৫১১৮৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কোন কোন কারণে স্বামীর কাছ থেকে ডিভোর্স নেওয়া জায়েজ আছে
৫ মে, ২০২৬
যশোর
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কোনো যৌক্তিক শরীয়তসম্মত প্রয়োজন ছাড়া স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাক দাবি করা নাজায়েজ এবং গুনাহের কাজ। নবী করীম (সা.) শরঈ কারণ ছাড়া তালাক বা খোলা দাবি কারিনী নারীকে 'মুনাফিক' হিসেবে অভিহিত করেছেন। এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا طَلاَقًا مِنْ غَيْرِ بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَيُرْوَى هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ عَنْ ثَوْبَانَ . وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ أَيُّوبَ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, কোনরূপ কষ্টের সম্মুখীন না হয়ে যে মহিলা তার স্বামীর নিকট তালাক চায় তার জন্য জান্নাতের সুগন্ধও হারাম। (জামে' তিরমিযী, হাদীস নংঃ ১১৮৭)
* তবে স্ত্রী নিম্নোক্ত করনে তার স্বামীর কাছে তালাক চাওয়ার অধিকার রাখে,
যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে অন্ন-বস্ত্র \ ভরণপোষণ না দেয় অথবা দাম্পত্য অধিকার আদায় না করে, সীমাতীত মারধর করে কিংবা শরীর জখম করে দেয়—অর্থাৎ মোটকথা পশুর মতো আচরণ করতে থাকে যা ধৈর্যের বাইরে চলে যায় এবং মানুষের বোঝানোর পরও সে বিরত না হয় এবং একসাথে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়ে, তবে এমন অবস্থায় স্ত্রীর তালাক চাওয়ার অধিকার রাখে।
* যদি কোনো নারী তার স্বামীকে কোনো যৌক্তিক শরীয়তসম্মত কারণে এতটাই অপছন্দ করেন যে, কোনোভাবেই আর তার সাথে সংসার করা সম্ভব না হয়, তবে এর সর্বোত্তম সমাধান হলো,
সে স্বামীকে বুঝিয়ে তালাক দিতে রাজি করাবে। এমন পরিস্থিতিতে স্বামীরও উচিত, যখন তারা বিবাহের সম্পর্কটি মাধুর্যের সাথে বজায় রাখতে পারছে না, তখন স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আলাদা করে দেওয়া।
কিন্তু স্বামী যদি তালাক দিতে রাজি না হয়, তবে নারীর এই অধিকার রয়েছে যে, সে নিজের মোহর ফেরত দিয়ে অথবা কিছু সম্পদ দিয়ে স্বামীকে রাজি করিয়ে তালাক নিয়ে নেবে; আর এরই নাম হলো 'خلع' খোলা। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, খোলার জন্য স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই সম্মতি থাকা আবশ্যক।
* উল্লেখ্য,
দাম্পত্য জীবনকে প্রশান্তিময়, আনন্দদায়ক ও সুন্দর করে তুলতে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই একে অপরের অধিকার যথাযথভাবে আদায় করা জরুরি। ইসলাম যেমন স্বামীকে স্ত্রীর প্রতি সদাচরণ, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতার নির্দেশ দিয়েছে, তেমনি স্ত্রীকেও স্বামীর বৈধ অধিকার আদায় ও আনুগত্যের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ
“নারীদেরও তেমন অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের ওপর রয়েছে—ন্যায়সংগতভাবে।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং:২২৮)
* নবী কারীম ﷺ স্বামীদেরকে স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। হযরত আয়িশা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেছেন,
خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।” (জামে‘ তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৮৯৫)
অন্যদিকে, স্ত্রীকেও স্বামীর বৈধ অধিকার আদায় ও শরীয়তসম্মত বিষয়ে আনুগত্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেছেন,
لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ، لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا
“আমি যদি কাউকে অন্য কারও জন্য সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে তার স্বামীকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম।” (জামে‘ তিরমিযী, হাদীস নং: ১১৫৯)
অবশ্য এ হাদীস দ্বারা স্বামীকে সিজদা করা বৈধ হওয়ার কথা বোঝানো হয়নি; বরং স্বামীর অধিকারের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। কারণ আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা জায়েয নয়। একইভাবে স্ত্রীর আনুগত্যও কেবল শরীয়তসম্মত ও বৈধ বিষয়ে; গুনাহের কাজে কোনো মানুষের আনুগত্য করা যাবে না।
সুতরাং, একটি সুন্দর ও প্রশান্তিময় দাম্পত্য জীবনের জন্য স্বামী যেমন স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান, সদাচরণ ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করবেন, তেমনি স্ত্রীও স্বামীর বৈধ অধিকার আদায়, সম্মান ও আনুগত্য করবেন। পারস্পরিক ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও অধিকার আদায়ের মাধ্যমেই একটি পরিবার হয়ে উঠতে পারে শান্তি ও প্রশান্তির নীড়।
(مشكاة المصابيح، كتاب النكاح، باب عشرة النساء ص: 281 ط: قديمي)
"وعنعائشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خيركم خيركم لأهله، وأنا خيركم لأهلي، وإذا مات صاحبكم فدعوه»، رواه الترمذي والدارمي".
(مشكاة المصابيح، كتاب النكاح، باب عشرة النساء ص: 281 ط: قديمي)
"وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لو كنت آمرًا أحدًا أن يسجد لأحد لأمرت المرأة أن تسجد لزوجها». رواه الترمذي".
(مشكاة المصابيح، كتاب النكاح، باب الخلع و الطلاق 5 / 2144 ط: دار الفكر)
"عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «المنتزعات والمختلعات هن المنافقات» . رواه النسائي".
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১